Uncategorized

ঘুসের টাকা ফেরত চেয়ে উকিল নোটিশ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সাব-রেজিস্টারকে দেওয়া ঘুসের টাকা ফেরত চেয়ে উকিল নোটিশ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী। সাত লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার পরও তার কাজ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলিলদাতা ও গ্রহীতা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পুখুরিয়া শিয়ালকোল মৌজায় মৃত মো. হায়দার আলী খানের ৫৪ শতাংশ জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পান তার স্ত্রী মাজেদা বেগম এবং একমাত্র কন্যা তানিয়া সুলতানা। এ সম্পত্তি দেখভাল করার জন্য তারা তানিয়ার স্বামী মো. আব্দুল বারী মিয়ার নামে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল করতে আসেন ভূঞাপুর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে।

গত ৩০ এপ্রিল পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল করার জন্য সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দাখিল করেন। কাগজপত্রে জটিলতার কথা বলে ১০ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন সাবরেজিস্ট্রার অঞ্জনা রানী দেবনাথ। পরে সাত লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে দলিল করতে রাজি হন তিনি। সেই চুক্তি মোতাবেক ঘুসের সাত লাখ টাকা বুঝে নিয়ে কমিশনের মাধ্যমে দলিল করার পরামর্শ দেন সাবরেজিস্ট্রার।

সেই মোতাবেক গত ৩ মে সকালে অফিস সহকারী জুয়েলকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে দলিল গ্রহীতার নিজ বাসা পৌর এলাকার ঘাটান্দি নাইমা মঞ্জিলে পাঠান সাবরেজিস্ট্রার অঞ্জনা রানী দেবনাথ। এ সময় দলিলে মোট জমির পশ্চিম দিক থেকে ৫৪ শতাংশ জমির দলিল সম্পাদন করে বালাম বই, দলিলসহ অন্যান্য কাগজপত্রে দাতা ও গ্রহীতাদের টিপসই ও স্বাক্ষর নিয়ে আসেন।

অন্যদিকে একই সম্পত্তির অন্যান্য অংশীদার বাকি জমি বিক্রি করেন খাইরুল ইসলাম গংদের কাছে। তারা ৭ মে দলিল দাখিল করতে গিয়ে জানতে পারেন এই সম্পত্তির পশ্চিমাংশ আগে দলিল হয়ে গেছে। পরে খাইরুল ইসলাম গংরা জমির পশ্চিমাংশ পাওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন সাবরেজিস্ট্রারের কাছে। সাবরেজিস্ট্রার অঞ্জনা রানী দেবনাথ ৩ মে তারিখের গ্রহীতা মো. আব্দুল বারী মিয়ার কমিশনকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল বাতিল দেখিয়ে ৭ মে নিয়মিত দলিলে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ১৪৩০নং দলিলের নম্বর কেটে নতুন সিরিয়াল নম্বর দেন ১৪৩১। অপরদিকে বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে খাইরুল ইসলাম গংদের ১৪৩১নং নিয়মিত দলিলের নম্বর কেটে নতুন সিরিয়াল নম্বর দেন ১৪৩০।

বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম দলিল গ্রহীতা আব্দুল বারী মিয়া তার দেওয়া ঘুসের সাত লাখ টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা করতে থাকেন অঞ্জনা। একপর্যায়ে ঘুসের টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করায় গত ১৬ মে তারিখে ঘুসের টাকা ফেরত চেয়ে অ্যাডভোকেটের মাধ্যমে উকিল নোটিশ দেন। নোটিশে বলা হয়েছে, সাত কার্যদিবসের মধ্যে ঘুসের টাকা ফেরত না দিলে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রচলিত আইনে মামলা করা হবে।

ভূঞাপুর সাবরেজিস্ট্রার অঞ্জনা রানী দেবনাথ জানান, তিনি কোনো নোটিশ পাননি এবং কোনো ঘুসগ্রহণ করেননি।

Related Articles

Back to top button